ভয়ঙ্কর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসতে পারে—এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভূ-বিজ্ঞানীরা। তারা জানিয়েছেন, দেশটিতে রিখটার স্কেলে ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
এই আশঙ্কার ভিত্তি ১৫০ বছরের ভূমিকম্প সংক্রান্ত তথ্য। চীনের বেইজিং ভূমিকম্প সংস্থার সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ঝু হংবিন এর নেতৃত্বে করা গবেষণায় এমন আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে।
গবেষকরা ১৮৭৯ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত পৃথিবীর ভূমিকম্প সংক্রান্ত তথ্য ও পৃথিবীর ঘূর্ণনের গতি বিশ্লেষণ করেছেন। গবেষণায় এক ভয়ঙ্কর প্যাটার্ন ধরা পড়েছে।
তাদের মতে, পৃথিবীর ঘূর্ণনের গতি বা দিনের দৈর্ঘ্যের (LOD) পরিবর্তনের সঙ্গে ভূমিকম্পের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। পৃথিবী যখন ধীরে ঘোরে, তখন বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা বাড়ে।
এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে ২০ মার্চ, Journal of Geodesy and Geodynamics-এ। আর এটি প্রকাশের কিছুদিন পরেই মায়ানমার-এ ৭.৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে।
চীনের বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, এখন যে চাপ তৈরি হচ্ছে, তা উত্তর-পূর্ব দিকে সরে যেতে পারে। এতে করে সিচুয়ান, ইউনান এবং হিমালয় অঞ্চল বড় বিপদের মুখে পড়তে পারে।
তারা এটাও জানিয়েছেন যে, চীন এবং তার আশেপাশের এলাকাগুলো এখন একটি নতুন ভূমিকম্পীয় সক্রিয় পর্যায়ে প্রবেশ করছে। এই পর্যায় হয়তো কয়েক বছর ধরে চলতে পারে।
বিশেষ করে লংমেনশান ফল্ট লাইনে চাপ বাড়ছে বলে দেখা যাচ্ছে। এখানেই ২০০৮ সালে ভয়াবহ সিচুয়ান ভূমিকম্প হয়েছিল, যাতে বহু প্রাণহানি ঘটেছিল।
এই ফল্ট লাইন হিমালয়ের পূর্ব অংশের সাথে যুক্ত। সেখানে জিপিএস ডেটা বলছে, ভারতীয় টেকটোনিক প্লেট উত্তরদিকে আরও বেশি গতি নিচ্ছে।
এই পরিবর্তন ভূমিকম্পের সম্ভাবনা বাড়ানোর পাশাপাশি ভূ-রাজনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয়ও ডেকে আনতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন।
