গর্ভাবস্থায় জোর করে করেছে প্রযোজক, অপকটে সব বলে দিলেন রাধিকা আপ্টে
bySANGBAD SARABELA-
0
আলো ঝলমলে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সেই দৃপ্ত অভিনেত্রীর চোখে কখনও ধরা পড়ে না অশ্রুর আভাস। কিন্তু তার হাসির আড়ালে যে কতটা যন্ত্রণা লুকিয়ে থাকে, তা কে জানে?
2/12
এমনই এক গল্প শোনালেন বলিউডের প্রশংসিত অভিনেত্রী রাধিকা আপ্তে, যখন তিনি নিজের গর্ভাবস্থার প্রথম দিককার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন নেহা ধূপিয়ার ‘ফ্রিডম টু ফিড’ নামক এক আলোচনায়।
3/12
রাধিকা জানালেন, নিজের শরীর ও মনে তখন ভয়ানক পরিবর্তন চলছিল। চুপিচুপি নিঃশব্দে লড়াই করছিলেন তিনি – ক্রেভিং, ক্লান্তি আর ব্যথার সঙ্গে। এর মাঝেই চলছিল টানা শুটিং।
4/12
তিনি বলেন, “আমি ভারতে একটি প্রজেক্টে কাজ করছিলাম। যখন আমি প্রেগনেন্সির কথা জানালাম, প্রযোজকের প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত ঠাণ্ডা ও সংবেদনশূন্য। আমাকে টাইট জামা পরতে বলা হয়, যদিও আমি তখন খুব অস্বস্তিতে ছিলাম।”
5/12
প্রথম ট্রাইমেস্টার – একটি নারীর জীবনের সবচেয়ে সংবেদনশীল সময়। শরীর চাইছিল বিশ্রাম, মন চাইছিল সান্ত্বনা, কিন্তু বাস্তবতায় রাধিকাকে লড়তে হচ্ছিল ক্যামেরার সামনে।
6/12
তারকা বলি অভিনেত্রী বলছিলেন, “ভাত, পাস্তা এসব খাচ্ছিলাম, শরীরে পরিবর্তন হচ্ছিল। কিন্তু আমার প্রতি সামান্যও সহানুভূতি দেখানো হয়নি। এমনকি যখন ব্যথা হচ্ছিল, তখনও চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি” — ব্যথা আর অভিমান একসঙ্গে ঝরে পড়ে তাঁর কণ্ঠে।
7/12
তবে এই কঠিন অভিজ্ঞতার পাশাপাশি একটি আশার আলোও দেখেছেন তিনি। এক আন্তর্জাতিক প্রজেক্টে কাজ করার সময় ঠিক উল্টো অভিজ্ঞতা হয় রাধিকার।
8/12
“যখন আমি হলিউডের সেই পরিচালককে বললাম, আমি প্রচুর খাচ্ছি এবং শুটিংয়ের শেষে হয়তো অন্যরকম দেখাব, তিনি হেসে বললেন, কোনো সমস্যা নেই, তুমি যেমনই হও, তুমি প্রেগনেন্ট এবং এটা একদম ঠিক। এই কথা শুনে খুব স্বস্তি পেয়েছিলাম।” বলছিলেন রাধিকা আপ্তে।
9/12
একটি সহজ, মানবিক প্রতিক্রিয়া – যা হয়তো কারও কাছে ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু একজন গর্ভবতী নারীর কাছে তা হয়ে উঠেছিল আশীর্বাদ।
10/12
রাধিকা নিজের বক্তব্যে বারবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি কোনো বিশেষ সুবিধা চাননি – শুধু একটু সহানুভূতি। বলছিলেন, “আমি বুঝি পেশাগত দায়িত্ব থাকে, এবং আমি সবসময় তা মেনে চলি। কিন্তু একটু মানবতা আর বোঝাপড়া অনেক বড় ব্যাপার।”
11/12
এই ঘটনাগুলো শুধু একটি ব্যক্তিগত যন্ত্রণার প্রকাশ নয়, বরং বলিউড ও বিনোদন দুনিয়ার অন্তর্নিহিত মনোভাবকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে। রাধিকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে — গর্ভাবস্থা কোনো বাধা নয়, বরং তা আরও সম্মান ও সমর্থনের দাবিদার।
12/12
‘ফ্রিডম টু ফিড’-এর মতো প্ল্যাটফর্ম আজ এই কথাগুলো প্রকাশ্যে আনার সাহস জুগিয়েছে। রাধিকার গল্প শুধু একটি অভিজ্ঞতা নয়, এটি আরও বহু কর্মরত নারীর কণ্ঠস্বর, যারা প্রতিদিন কাজের জায়গায় লড়াই করেন নিজের শরীর, মন এবং সম্মানের জন্য।