একটা কথা সত্যি বলি—
নারীদের স্ত*ন দেখতে কার না ভালো লাগে? সত্যি বললে—আমারও লাগত।
বিশেষ করে নারীর শরীরের দিকে তাকাতে আমাদের চোখে শুধু রূপ, আকৃতি আর কামনা ভেসে ওঠে—
অর্থ, ইতিহাস, কিংবা ত্যাগ নয়।
আমি নিজেও একসময় ঠিক তেমনই ছিলাম।
রাস্তার ধারে কোনো নারী হাঁটলে, চোখ নিজের অজান্তেই তার বুকের দিকে চলে যেত।
মনে হতো, “এই তো সৌন্দর্য!”
তখন বুঝতাম না—এই সৌন্দর্যের পেছনে কতটা কষ্ট, কতটা ত্যাগ, কতটা নিঃশেষ হয়ে যাওয়া লুকিয়ে আছে।
তারপর একদিন, জীবনের এমন একটা দৃশ্য চোখের সামনে এলো—
যা আমার ভেতরের “পুরুষ”টাকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল।
আর সেই দিন থেকেই আমি মানুষকে দেখা শিখেছি।
একটি তালপাতা ছাওয়া ছোট্ট ঝুপড়ি,
বাইরে লাল মাটির দাওয়ায় বসে এক মা।
চুল এলোমেলো, চোখে ঘুম নেই, শরীরটাও যেন শুকিয়ে কাঠ।
কোলের শিশুটি কাঁদছে না—বরং নীরবে লেগে আছে মায়ের বুকে।
সে শিশুটি জানে না, ওখানে এখন দুধ নেই।
তার ছোট্ট ঠোঁট শুধু টেনে টেনে চুষে যাচ্ছে মায়ের শূন্য স্তন।
শব্দ হচ্ছে—চোঁক চোঁক... চোঁক চোঁক...
একটা নিরব, অসহায় সুর—
যেন সে এখনো বিশ্বাস করতে চাইছে, “মা আমাকে দেবে… কিছু না কিছু দেবে।”
কিন্তু বুক তো খালি।
দুধ নেই, খাবার নেই, শক্তি নেই।
শুধু আছে এক মায়ের মরিয়া ভালোবাসা।
মা কিছু বলে না, শুধু তাকিয়ে থাকে সন্তানের মুখের দিকে।
তার চোখে কোনো রাগ নেই, কোনো অভিযোগও নেই—
শুধু একরাশ হাহাকার জমে আছে।
দৃষ্টি বলছে, “দু’ফোঁটা দুধ… শুধু দু’ফোঁটা…”
কিন্তু সে দুধের বদলে,
মায়ের চোখ থেকে টপ টপ করে ঝরছে অশ্রু।
সে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে বুক বেয়ে, পৌঁছে যাচ্ছে শিশুর ঠোঁটে।
মাঝে মাঝে আমি নিজেকে প্রশ্ন করতাম—
শিশুটি কি সত্যিই দুধ খাচ্ছে?
না কি সে মায়ের চোখের জলকেই দুধ ভেবে গিলে নিচ্ছে?
হয়তো সে বুঝতে পারছে না—
যা সে খাচ্ছে, তা আসলে ক্ষুধা নয়, মায়ের কষ্ট।
সেই দৃশ্যটা আমার ভেতরে ঝড় তুলেছিল।
সেদিন বুঝেছিলাম—
নারীর স্তন কোনো কামনার বিষয় নয়,
ওটা এক অদৃশ্য ইতিহাসের পৃষ্ঠা—
যেখানে লেখা আছে জন্মের গল্প, ক্ষুধার কান্না, মায়ের ত্যাগ।
একজন নারী যখন সন্তানের মুখে দুধ দেয়,
তখন সেটা শুধু পুষ্টি নয়—
ওটা পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র দান।
আর যখন তার বুক শুকিয়ে যায়,
তখনও তার ভালোবাসা শুকোয় না।
আজ আমি যখন রাস্তায় কোনো নারীকে দেখি,
চোখে আগে যেটা কামনা দেখত, এখন সেটা দেখে না।
এখন মনে হয়—
তার বুক যেন পূর্ণ থাকে,
যেন কোনো শিশুর প্রথম স্বাদ অশ্রুর নোনতা না হয়,
হোক সেটা দুধের মিষ্টি।
একজন বাবা হওয়ার পর,
আমি ওই দৃশ্যটার মানে আরও গভীরভাবে বুঝেছি।
আমার সন্তানের মুখে যখন প্রথম দুধের ফোঁটা দেখেছিলাম,
আমার চোখে তখন অন্য এক পৃথিবী খুলে গিয়েছিল।
বুঝেছিলাম—
নারীর বুক কোনো দেহাংশ নয়,
ওটা এক শিশুর প্রথম পৃথিবী,
প্রথম শান্তি, প্রথম প্রার্থনা।
তাই আজ আমি প্রতিটি পুরুষকে বলি—
তুমি নারীকে দেখো, দেখতেই পারো,
কিন্তু দেখার ভঙ্গিটা বদলে দাও।
তার ভেতরে একটা মহাসাগর আছে—
যেখানে ভালোবাসা ঢেউ হয়ে ওঠে,
ত্যাগ নীরবে বয়ে যায়,
আর অশ্রু গলে দুধ হয়ে যায়।
নারীর শরী"রকে শুধু কামনার নয়,
জীবনের উৎস হিসেবে দেখো।
তোমার চোখে যেন কোনো শিশুর অশ্রু আরেকবার দুধ হয়ে না পড়ে।
কারণ,
যে বুক শূন্য হয়েও সন্তানের মুখে চোখের জল দেয়—
সেই বুকই পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র স্থান।
আর সেই শূন্য বুকই আমাকে শিখিয়েছে—
সবচেয়ে অপূর্ণ জিনিসটাই
সবচেয়ে নিখুঁত ভালোবাসা হতে পারে।
Tags
Entertainment