নতুন ছবি রিলিজের সময় প্রবল ব্যস্ততা, তার মাঝেই কিছুদিন আগে কথা বলার সময় বের করে নিলেন অভিনেত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য যুব সভানেত্রী সায়নী ঘোষ। ২০২১ সাল থেকে সায়নীর জীবনটা একেবারে ইউটার্ন নিয়েছে বলা চলে। অভিনেত্রী থেকে নেত্রী হলেন। এই ফেজটা কেমন উপভোগ করছেন?
সায়নীর জানালেন, “আগে যেমন মাসে দশ-বারোদিন শুটিং করলেও বাকি দিন নিজের জন্য থাকত। এখন বোধহয় নিজের জন্য সময় বলে কিছু নেই। পরিবারের জন্যও তেমন সময় দিতে পারি না। সারাক্ষণ নানা কর্মসূচি থাকেই। আর এত ক্রুশিয়াল টাইমে আমি জয়েন করেছি, যেটা সেই অর্থে কমফর্টেবল টাইম নয়। ’ ২১-এর ইলেকশন গেলেও, আসবে ’২৪-এর ইলেকশন, তারপর ’২৬-এর পরিকল্পনা আছে, আরাম করার সময়ে জয়েন করিনি।

অফকোর্স, এই সময়টা উপভোগ করছি। পশ্চিমবঙ্গের এতগুলো জেলার নামই জানতাম না। সেইখান থেকে শুরু করে ব্লকের নাম জানা, টাউনের নাম জানা, বুথের নম্বর জানা সবটাই করতে হচ্ছে। যেটা যথেষ্ট উপভোগ্য। প্রচুর মানুষ আগে ক্যামেরায় দেখত, বা টেলিভিশনে বা পর্দায় দেখত আমাকে, তারা আমাকে সাক্ষাতে দেখতে পাচ্ছে।”
সত্যিই তো পর্দায় আপনাকে দেখা মানুষগুলো এখন সরাসরি ছুঁতে পর্যন্ত পারছে। সেই প্রসঙ্গে সায়নী বলছেন, ‘সে আর বলতে! ওদের সকলের মধ্যে এত উত্তেজনা দেখতে পাই, কী বলব। আমি সে অর্থে প্রচুর সিকিউরিটি নিয়ে ঘুরি না। কারণ, মানুষের সঙ্গে অনেকটা দূরত্ব তৈরি করে দেয়। প্রথমে যখনই গ্রামের দিকে যেতাম, মনে হত আমাকে তো কেউ চিনবেই না। কিন্তু আমার কাছে সারপ্রাইজ ছিল, মানুষের যে ন্যাচারাল অভিব্যক্তি পেয়েছিলাম। আমি যখন প্রথম কনসার্ট করি তখনও দারুণ প্রতিক্রিয়া পেয়েছি, এখন তো বলাই বাহুল্য।’ কিন্তু ভালবাসার অত্যাচার যদি বাড়াবাড়ি হয়ে যায়? জোরে হেসে অভিনেত্রী বলছেন, ‘সে তো আছেই, বেশি ভালবাসা ভাল নয়। তবে ঠিক আছে। যদি উন্মাদনাই না থাকে, আমাকে ঘিরে মানুষের কৌতূহল না থাকে, তাহলে এখানে থাকার মানে কী?’ একটা সময় ছিল, যখন অভিনেত্রী সায়নী ঘোষকে লম্বা চুলে ভাবতে পারতাম না আমরা। ‘আমি নিজেও একদম ভাবতে পারতাম না।’ প্রশ্নের মাঝে সায়নীর স্বীকারোক্তি। সেই সায়নী এখন মঞ্চে শাড়ি পরে শুধু দারুণ বক্তৃতাই দিচ্ছেন না, রীতিমতো মঞ্চ জমিয়ে দিচ্ছেন। কিছুদিন আগে সভায় গান গেয়ে মঞ্চ মাতিয়ে দিলেন। ‘আসলে ভাষণের একটা প্যাটার্ন আছে, প্রথম কথা। কিন্তু সবাই একরকম হয়ে গেলে দর্শকের জন্য একঘেয়ে হয়ে যায়। আমি চেয়েছিলাম অডিয়েন্সকে এনগেজ করতে। গান ভালবাসি। আর আমার শিল্পীসত্তা বজায় আছেই, ওটা কেউ নিতে পারবে না। এখন আমি পঁচিশ হাজার লোকের সামনে ভাষণের মধ্যেই যদি সেটা ইনকরপোরেট করে দিতে পারি, মানুষও আনন্দ পায়। আর আমার লুক অ্যান্ড ফিল পাল্টে গিয়েছে, যেটা বলছ– দলের জায়গা থেকে কিন্তু কেউ কিছু বলে না। আমার দল অত্যন্ত লিবারাল। সেখানে আমি যখন গ্রামের দিকে যাই, সেখানকার মানুষের কাছাকাছি যদি আমাকে দেখতে না লাগে, তাহলে তঁারা এগিয়ে আসতে কুণ্ঠাবোধ করবেন। আমি জিন্স-শার্ট পরার চেয়ে, সাধারণ শাড়ি পরে, ঝুঁটি বেধে চলে গেলে ৩০-৪০ জন মহিলা কিন্তু কথা বলতে সহজে ঘিরে ধরেন আমাকে। দে ফিল মোর কানেক্টেড। তাঁরা তখন সহজে সমস্যার কথা বলেন।’
রাজনৈতিক কাজের পাশাপাশি সায়নী ব্যালান্স করছেন তার অভিনয় জীবনও। কিছুদিন আগেই তাঁকে আমরা অনীক দত্ত-র ‘অপরাজিত’ ছবিতে পেয়েছি। যেখানে ‘বিজয়া রায়’-এর চরিত্রে তাঁর অভিনয় বহুল প্রশংসিত। এবারে আজ আসছে ‘এল.এস.ডি– লাল সুটকেসটা দেখেছেন?’ যেখানে মুখ্য চরিত্রে রয়েছেন সোহম চক্রবর্তী ও সায়নী ঘোষ। সেই ছবি সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করায় অভিনেত্রী বলছেন, ‘এটা ডার্ক কমেডি ঘরানার ছবি। থ্রিলারের মিক্স আছে। ড্রাগের বিরুদ্ধে সচেতনতার কথা বলা হয়েছে চিত্রনাট্যে। সোহমের সঙ্গে আমার এই প্রথমবার জুটি বাঁধা। আমি এমন একটি চরিত্রে যার সম্বন্ধে বলা হচ্ছে, ঢুকল মিস শেফালি, বেরল সন্ধ্যা রায়! এই মেয়েটি বাড়ির লোকের সামনে ভীতু-লাজুক টাইপের। চুড়িদার পরে। কিন্তু ভিতরে তার একটা বন্য সত্তা আছে। যে জীবনে সবকিছু পরখ করে নিতে চায়। এক সময় জানতে পারে ওর বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ওর ইচ্ছে ছিল সাইকেডেলিক ড্রাগ ট্রাই করার। একসময় দেখে সাত দিন কি পনেরো দিন সময় আছে বিয়ের আগে। তাহলে কি ড্রাগ ট্রাই করা হবে না তার? সেই সময় ড্রাগ পাওয়ার একটা কনট্যাক্ট খুঁজে পায়। কিন্তু সে বলে, একা-একা এসব করা যাবে না। ইউ নিড ট্রিপ সেটার। তখন মেয়েটির মনে পড়ে কলেজের ক্যাবলা ধরনের একটি ছেলের কথা (সোহম)। যে খুব সেফ। সোহমকে নিয়ে এই মেয়েটির একরাতের দুঃসাহসিক জার্নি নিয়েই ছবি এগোবে।’ বোঝাই যায়, একরাতের গল্পে আছে অনেক রোমহর্ষক মোড়।
