বছর দেড়েক আগেও তাঁকে প্রায় কেউই চিনতেন না। গত বছর কান চলচ্চিত্র উৎসব দিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। তাঁর অভিনীত সিনেমা ‘আনরো’ জিতে নেয় উৎসবের সর্বোচ্চ পুরস্কার স্বর্ণপাম। পরে আরও অনেক পুরস্কার জেতার পর চলতি বছর অস্কারেও হন সেরা অভিনেত্রী। সবচেয়ে কম বয়সে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে অস্কার জেতার পর রাতারাতি হয়ে ওঠেন বিশ্বতারকা। তিনি আর কেউ নন, মাইকি ম্যাডিসন। সেই অভিনেত্রীকে নিয়ে বছরজুড়েই ভক্তদের কৌতূহল ছিল। তাই তো গুগল চলতি বছরের ‘মোস্ট সার্চড’ তারকাদের যে তালিকা প্রকাশ করেছে; মাইকি সেই তালিকার শীর্ষ রয়েছেন।
শন বেকারের ‘আনোরা’ সিনেমার জন্য এবার ম্যাডিসন অস্কারে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জেতেন; পেছনে ফেলেন ডেমি মুর (‘দ্য সাবস্ট্যান্স’), ফিরনান্দা তোরেস (‘আই আম স্টিল হেয়ার’), কারলা সোফিয়া গ্যাসকোনকে (‘এমিলিয়া পেরেজ’)।
সিনেমায় দেখা যায় কুখ্যাত রাশিয়ান গ্যাংস্টারের ছেলে এক স্ট্রিপ ড্যান্সারের প্রেমে পড়ে। দুজন বিয়ে করে, কিন্তু সেই গ্যাংস্টার বিয়ে মেনে নেয় না। এমন গল্প নিয়ে শন বেকারের সিনেমা ‘আনোরা’। সিনেমাটি আদতে নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনের বাস্তবতা আর তাদের স্বপ্নের টানাপোড়েনের গল্প।
ছবিতে যৌনকর্মী আনির চরিত্রে অভিনয় করেছেন মাইকি ম্যাডিসন। ছবিতে তাঁর বিপরীতে রয়েছেন মার্ক আইডেলস্টেইন, যিনি অভিনয় করেছেন ধনী ও ক্ষমতাবান রুশ যুবক ইভান চরিত্রে। লাস ভেগাসে দুজনের বিয়ে হলেও নিউইয়র্কে ইভানের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে গল্পে আসে নাটকীয় মোড়।
এ সিনেমায় অভিনয় নিয়ে এর আগের ভ্যারাইটি পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ম্যাডিসন বলেছিলেন, ‘শুরুতে আমি শারীরিক চ্যালেঞ্জটিকেই গুরুত্ব দিয়েছিলাম। কারণ, চরিত্রটি ছিল একজন ড্যান্সারের।’
সিনেমাটির প্রেক্ষাপট নিউইয়র্কের ব্রুকলিন। সেখানে রাশিয়া থেকে আসা অনেক মানুষের বাস। চরিত্রের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শুটিংয়ের কয়েক মাস আগেই ব্রুকলিনে হাজির হয়েছিলেন অভিনেত্রী।
তখন ম্যাডিসন স্থানীয় দোকান, রেস্তোঁরা, ক্লাবে নিয়মিত ঢুঁ মারতেন। স্থানীয় মানুষের আচরণ লক্ষ করতেন। বিশেষভাবে খেয়াল করতেন, তাঁদের উচ্চারণ। মাইকি জানান, শুটিংয়ের আগে ব্রুকলিন সফর তাঁকে অনেক কিছু শিখিয়েছে।
ম্যাডিসন বলেন, ‘শন আমার সঙ্গে দেখা করতে চান—এটা শুনে আমি হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। তবে প্রশ্ন করার সুযোগই দিইনি। সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যাই। মনে হয়েছিল, পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান অভিনেত্রী আমি।’
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ‘দ্য কাট’–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাডিসন জানান, সপ্তম শ্রেণির পর থেকেই তিনি হোমস্কুলিং করতেন। এতে তাঁর হাতে অনেকটা সময় থাকত, যা তিনি ব্যয় করতেন প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলায়।
এস্কায়ার সাময়িকীকে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে ম্যাডিসন বলেন, তাঁর মা ও নানিও ঘোড়সওয়ার ছিলেন। তিনি তাই ছোট থেকেই এই খেলায় অংশ নেন। ‘আমি হাঁটতে শেখার আগেই ঘোড়ায় চড়েছি,’ বলেন তিনি।
ম্যাডিসন আরও বলেন, ‘আমি নিজেই নিজেকে পড়াতাম, যাতে সারা দিন আস্তাবলে থাকতে পারি। ঘোড়ার যত্ন নেওয়ার একটা নিয়মিত জীবন ছিল। ভালো লাগত, তবে এটা খুব একাকী একটা খেলা। আমার মনে হচ্ছিল, আমি অন্য কিছুর দিকে টান অনুভব করছি।’
ম্যাডিসনের মা তাঁকে অভিনয়ের ক্লাসে ভর্তি করিয়ে দেন। ভোগ সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘অভিনয় আমাকে নিজের ভেতরের এক ভিন্ন সত্তার সঙ্গে যুক্ত করেছে। এটা খুব সাহসী, গভীর ও আবেগময়—যা আমি ঘোড়সওয়ারির জীবনে অনুভব করতাম না।’
ম্যাডিসন বলেন, ‘জ্যাম আমার জীবনের ভালোবাসা—আর একই সঙ্গে পুরো বিশৃঙ্খলা। ও মাত্র ছয় মাস বয়সী, অনেক পরিণত।’ অবসর সময়ে তিনি সিনেমা দেখেন, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান, রান্না ও বেকিং করেন। ‘অন্যদের জন্য রান্না করতে ভালোবাসি। এটা আমাকে শান্ত করে,’ বলেন তিনি।
ফ্যাশনের প্রতি ভালোবাসা
ভোগ সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ম্যাডিসন জানান, একসময় ফ্যাশন ডিজাইনার হওয়ার কথাও ভেবেছিলেন। ‘ভিনটেজ পোশাক আমার খুব পছন্দ। কখনো ভিক্টোরিয়ান ড্রেসের সঙ্গে কমব্যাট বুট পরতাম। আবার একসময় সত্তরের দশকের স্টাইল। আমার কাছে এমন অনেক পোশাক আছে, যেগুলো এখন আর পরি না, কিন্তু ছাড়তেও পারি না,’ বলেন তিনি।
নিজের অভিনয় নিয়ে এস্কারায়কে ম্যাডিসন বলেন, ‘আমি এখন আত্মবিশ্বাসী। আমি পুতুল নই। অভিনয় একটা সহযোগিতামূলক কাজ, তাই আমার অন্যের পরামর্শ শোনা শোনা খুব জরুরি।’




