একদা বিশ্বসুন্দরী। হরনাজ় কৌর সন্ধুর প্রথম বার বলিউডে পা রাখছেন ‘বাগি ৪’ ছবির হাত ধরে। কিন্তু ২০২১ সালে শিরোপা জেতার পর আকস্মিক ওজন বৃদ্ধি হয় তাঁর। তা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হয় বার বার। কিন্তু আত্মবিশ্বাসে ভর করে সে বিষয়ে কথা বলেন হরনাজ়। এমনকি, ক্যামেরার সামনে থেকে নিজেকে সরিয়েও নেননি। তবে বিশেষ অটোইমিউন রোগ সিলিয়াকে আক্রান্ত হওয়ার ফলেই হঠাৎ ওজন বেড়ে যায় তাঁর। গ্লুটেন সহ্য করতে না পারায় এই রোগে ওজন বাড়তে থাকে দ্রুত।
কিন্তু ‘বাগী ৪’-এ অভিনয়ের জন্য নিজেকে গড়েছেন নতুন ভাবে। শিখেছেন মিশ্র মার্শাল আর্ট, কিকবক্সিং ও অস্ত্র ব্যবহারের কৌশল। এগুলি শুধু শরীরকেই নয়, মানসিক দৃঢ়তা বৃদ্ধিতেও সাহায্য করেছে বলে জানান অভিনেত্রী। স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে তিনি এখন মেনে চলেন কঠোর ভবাবে গ্লুটেনমুক্ত ডায়েট।
তবে বিশ্বসুন্দরীর ভুবনভোলানো হাসি আর চোখধাঁধানো জেল্লার নেপথ্যে কোন রহস্য রয়েছে? সম্প্রতি সে বিষয়ে কথা বলেছেন হরনাজ়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলেন অভিনেত্রী। নির্দিষ্ট, অথচ সাদামাঠা। ২৫ বছরের নায়িকা কেবল ত্বকের ক্লিনজ়িং অর্থাৎ ত্বককে পরিষ্কার রাখা, জলের ঘাটতি মেটানো এবং রক্ষা করায় বিশ্বাসী।
হরনাজ় বলছেন, ‘‘আমার বিশ্বাস, নিজের যত্ন করলে রূপে জেল্লা আসবে। তাতেই লুকিয়ে সৌন্দর্যের রহস্য। আমার দিনের রুটিন অত্যন্ত সহজ, যেখানে নিজের যত্নই আসল। ত্বককে পরিষ্কার রাখা, জলশূন্যতার সমস্যা যাতে না হয়, তা দেখা আর ত্বককে রক্ষা করা। যেমন সানস্ক্রিন মাখার কথা আমি কোনও দিনও ভুলি না। সারা দিনে প্রচুর পরিমাণে জল খাই। আর সকালে উঠেই জলে নুন মিশিয়ে পান করি।’’ তা ছাড়া মেকআপের আগে মুখে বরফ ঘষে নেন হরনাজ়। ফলে বরফের শীতল স্পর্শে ত্বক হয়ে ওঠে টানটান, ফোলা ভাব কমে যায় এবং ত্বক পায় উজ্জ্বলতা। তবে সবচেয়ে কার্যকরী টিপ্সের পরেই নিখাদ হাসি। এমনটাই বিশ্বাস ‘বাগি ৪’-এর নায়িকার। কৃত্রিম সাজসজ্জার বাইরে এই আন্তরিক হাসিই মানুষকে করে তোলে সবচেয়ে আকর্ষণীয়।
সকালে উঠেই এক গ্লাস নুন-জল পান করার ফলে হরনাজ়ের শরীরের ভেতর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বেরিয়ে যায়, প্রদাহ কমে যায় এবং হজমের সমস্যা কমে। তা ছাড়া শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস আর অনুশীলনের মাধ্যমে আগের ছন্দে ফিরেছেন নায়িকা।

