টলিউডের জনপ্রিয় মুখ ইন্দ্রাণী হালদার। ছোট পর্দা হোক বা বড় পর্দা, দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তিনি। দর্শকদের কাছে তিনি কখনও ‘গোয়েন্দা গিন্নি’, কখনও বা ‘শ্রীময়ী’। কিন্তু এই সফলতার পথ মোটেই মসৃণ ছিল না। জীবনের একেবারে শুরুর দিকে বলিউডে গিয়ে এমন এক অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছিলেন তিনি, যা আজও মনে করলে শিউরে ওঠেন।
ইন্দ্রাণী তখন সবে ২০ বছরের তরুণী। সরাসরি বলিউড থেকে সুযোগ এসেছিল তাঁর কাছে। প্রথম শিডিউলে শুটিংয়ে তিনি গিয়েছিলেন মায়ের সঙ্গে, তাঁদের রাখা হয়েছিল একটি ভালো হোটেলে। কিন্তু দ্বিতীয়বার যখন বাবার সঙ্গে যাওয়ার কথা, তখনই ঘটল অস্বাভাবিক ঘটনা। ইন্দ্রাণীর ফ্লাইট কাটা হয় সকালে, আর তাঁর বাবার টিকিট রাখা হয় বিকেলের। পৌঁছানোর পর ইন্দ্রাণীকে রাখা হয় এক নির্জন হোটেলে। তখনই সন্দেহ দানা বাঁধে তাঁর মনে।
দুপুরবেলা হঠাৎ ফোন করে প্রযোজক জানালেন তিনি এখনই দেখা করবেন। অপ্রস্তুত ইন্দ্রাণী কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রযোজক তাঁর রুমে চলে আসেন। এরপরই শুরু হয় অশ্লীল আচরণ। হাত ধরে টানাটানি, এমনকি নিজের জামাকাপড় খোলারও চেষ্টা করেছিলেন ওই প্রযোজক। ইন্দ্রাণীর কথায়, তখন মনে হচ্ছিল যেন আর কোনো উপায় নেই, আজই তাঁকে ভয়ঙ্কর এক পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হবে। ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে তিনি ঠাকুরকে ডাকছিলেন, “আমাকে বাঁচাও।”
ঠিক সেই সময়ই বাজে প্রযোজকের ফোন। ফোন করেছিলেন তাঁর স্ত্রী। এই অপ্রত্যাশিত কলই যেন আশীর্বাদ হয়ে আসে ইন্দ্রাণীর জীবনে। সুযোগ বুঝে তিনি দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দেন এবং জোরে জোরে কাশতে শুরু করেন। বাধ্য হয়ে সেখান থেকে সরে যান প্রযোজক। তবে যাওয়ার আগে হুমকি দিয়ে যান, ইন্দ্রাণীর কোনওদিন সফলতা আসবে না, বড় নায়িকারা যেখানে আপস করেন, সেখানে ইন্দ্রাণী আপস করতে রাজি নন বলে তিনি কখনওই উপরে উঠতে পারবেন না।
আরও পড়ুনঃ sexual assault : প্রেমের আড়ালে ফাঁদ! জুনিয়র ডাক্তারের বিরুদ্ধে ভুয়ো আশ্বাসে ধর্ষ*ণের অভিযোগ!
কিন্তু আজকের বাস্তব প্রমাণ করে দিয়েছে সেই প্রযোজকের ভবিষ্যদ্বাণী ভুল ছিল। আপস না করেও ইন্দ্রাণী হালদার আজ প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী। টানা ৩৪ বছরের অভিনয়জীবনে একের পর এক জনপ্রিয় চরিত্র উপহার দিয়েছেন তিনি। সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা আজও ভুলতে না পারলেও, নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন না দিয়ে যে মাথা উঁচু করে লড়াই করা যায়, ইন্দ্রাণী হালদার তার বাস্তব উদাহরণ।
