আজকে আমার বোনের বিয়েতে নিজেই বউ সেজে বসে আছি



আমার নাম মেঘা অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ,,আমার বাবা আশরাফুল চৌধুরী, মা,রেখা বেগম,আর বোনের নাম নিলা,,আসলে আমি তাদের র*ক্তের কেউ হই না।

ছোটবেলা আমাকে একটা অনাথ আশ্রম থেকে দত্তক নিয়েছিল আমার মা আর আমার বাবা তখন তাদের কোন সন্তান ছিল না।
আমার বয়স যখন পাঁচ বছর তখন আমার মা প্রে*গনেন্ট হয়।
নিলা যখন বড় হতে থাকে আমার উপর অ*ত্যাচার বাড়তে থাকে মায়ের মন আমার উপর থেকে বি*ষিয়ে দিতে থাকে.
ছোটবেলা থেকেই আদর করত আমাকে সবাই কখনো মনে হয় নাই এরা আমার র*ক্তের কেউ না।
সেই ছোটবেলা থেকেই নিলা আমাকে হিং*সা করতোও আমাকে মে*রে নিজেই কান্না করত মায়ের কাছে আমাকে মা*ইর খাওয়াতো আস্তে আস্তে এই নি*র্যাতন টা বাড়তেই থাকে।
আজকে নীলার বিয়ে বিয়ে ঠিক হয়েছে নিলা যে মানুষটিকে ভালবাসে সেই মানুষ টার সাথে শুনেছি তারা সহরে থাকে, ছেলের নাম আবির পড়াশোনা শেষ করে বাবার বিজনেস সামলায়।
দুই পরিবার মিলে ওদের বিয়ের আয়োজন করে।
কিন্তু হটাৎ বিয়ের দিন নীলা ঘর থেকে পালিয়ে যায়। ছোট একটা চিঠি লিখে যে এই বিয়ে সে করতে পারবে না।
এত আয়োজন এত মানুষ মান সম্মান একবারও নীলা ভাবলো না কারো কথা।
আশরাফ চৌধুরীর মান সম্মান রক্ষার জন্য বিয়ের জন্য নীলার বাবাকে উদ্দেশ্য করে বলে আপনার বড় মেয়েকে আমার ছেলের সাথে বিয়ে দিতে হবে আপনি আপনার বড় মেয়েকে রেডি করে নিয়ে আসুন।
বাবা কোনো কথা বললো না চুপচাপ রাজি হয়ে গেলো,,
রুমে এসে আমাকে বলল তৈরি হয়ে নাও বিয়ের জন্য।
হঠাৎ বিয়ে কথাটা শুনে যেন মাথায় আসমান ভে*ঙ্গে পড়লো।
বাবার মুখে সব টা শোনার পর বাবার হাতে পায়ে ধরে অনেক মিনতি করেছিলাম বাবা আমার কোন কথাই শুনে নাই।
বাবা আমাকে উদ্দেশ্য করে বললো
ছোটবেলা থেকে তো অনেক খাইয়ে পড়িয়ে মানুষ করেছি কখনো নিজের মেয়ের থেকে তোকে কম ভালোবাসি নি আমার মান-সম্মান রক্ষার দায়িত্ব তোর এবার তুই ঠিক করে নে তুই কি করবি,,
আমার মা রেখা বেগম আমার উদ্দেশ্য করে বলল কপাল ভালো যে আমার মেয়েটা চলে গেছে।
তাই তোর এতো ভালো জায়গায় বিয়ে হইতেছে না হলে তোর তো নিজের জন্মেরই ঠিক ছিল না তোরে কোন ছেলে বিয়ে করতো।
একটা আশ্রিত মেয়েকে কে বিয়ে করতো চুপচাপ রেডি করে দেব চুপচাপ বিয়েটা করে বিদায় হও।
মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে চোখ দিয়ে শুধু পানি পড়ছিল কিছু বলার ভাষা পাচ্ছিলাম না। চুপচাপ রেডি হয়ে নিলাম।
আবির তার বাবা আলম চৌধুরী কে উদ্দেশ্য করে বলে এই বিয়ে আমি করতে পারব না বাবা আমি নীলা কে ভালোবাসি,, ও এমন টা আমার সাথে করতে পারে না আবির উদ্দেশ্যে বলছে তুমি যাকে ভালোবাসো তার সাথে তোমার বিয়ে ঠিক করেছিলাম।
সে তো বিয়ের সোনা গহনা সব নিয়ে পালিয়েছে এখন এই বিয়ে তোমাকে করতেই হবে তোমার কারণে আমার মান সম্মান ন*ষ্ট করতে পারবো না মেয়েকে ভালোবাসো যে তোমার ভালবাসার কদরই দিতে জানে না বিয়ের দিন পালিয়ে যায় একটা চিঠি লিখে,,
আবির অনেক চেষ্টা করেও বিয়েটা আটকাতে পারল না বিয়েটা হয়েই গেল বধু বেশে দাঁড়িয়ে আছি রাজপ্রাসাদের সামনে।
কলিংবেলের শব্দ শুনে ভিতরে দরজা খুলতেই বয়স্ক মহিলা বলে ওঠেন একটা অনাথ মেয়েকে বিয়ে করে নিয়ে এলি যার কোন জ*ন্মের ঠিকানা নাই এই মেয়েকে আমি বউ হিসেবে মানতে পারবো না। বরন তো অনেক দূরের কথা।
আবির আগে আগে রুমে ডুকে উপরে চলে যায় নিজের রুমে,,
আমার ননদ আর ওদের কাজের মাসি আমাকে উপরে আবিরের ঘরে রেখে গেলো,
আমার খুব ভয় করছিল অচেনা জায়গা অচেনা মানুষ আজকে আমার বোনের এখানে থাকার কথা ছিলো।
সেই জায়গায় আমি দাঁড়িয়ে আছি হঠাৎ আমার ভাবনা ছেদ করেই আবির ওয়াশরুম বের হলো,,
আমাকে রুমে দাড়িয়ে থাকতে দেখে সজরে একটা থা*প্পড় দিলো।
আবির আমার গাল দুটো চে'পে ধরে বললো এতো লো*ভ বড় লোকের ছেলেকে বিয়ে করার,,তুই আমাকে বিয়ে করবি বলে আমার নীলাকে আমার জীবন থেকে সরিয়ে দিয়েছিস সবটা মেসেজ করে বলেছে নীলা
তোর টা*কা লাগতো তুই আমাকে বলতি আমি তোকে দিতাম,, কেন আমার এত বড় ক্ষ*তি করলি তুই.
এখনো আবির আমার গাল দুটো চে*পে ধরে আছে ব্যথা সহ্য করতে না পেরে আবির উদ্দেশ্যে বললাম ছাড়ন লাগছে আমার।
লাগুক তো লাগার জন্যই ধরেছি তুই যে কষ্ট আমার এই মনে আজকে দিয়েছিস এ মনের কষ্ট দিয়ে বুঝতে পারবি তোর মত লো'ভী মেয়েরা কোনদিন বুঝতে পারবে না।
দেখুন আপনার কথা ভুল হচ্ছে আমি কিছু করিনি আমি তো আজকে আগে আপনাকে ভালো করে চিনতামও না। আর নিলা আপু নিজেই আপনাদের বিয়ের সব গহনা নিয়ে চলে গেছে,,
তুই আমার নীলাকে চো*র বললি গহনা তুই লুকিয়ে রেখেছিস তোর মতো লো*ভী মেয়েরাই পারে বল সত্যি কথাটা গহনা কোথায় এটা বলে বে*ল্ট দিয়ে আমাকে নির্মমভাবে আ*ঘাত করতে থাকে হাঁ*পিয়ে যায় আমাকে আ*ঘাত করতে করতে আমার হাত ধরে টেনে রুমের বাহিরে ফেলে দিয়ে দরজা লক করে দেয় ভিতর থেকে।
সারা শরীরে ব্যথায় র-ক্তা*ক্ত হয়ে গেছে বেল্টের আ*ঘাতে আমার ননদ এসে আমাকে দেখে হাতে হাতে ধরে রুমে নিয়ে গিয়ে আ*ঘাতের জায়গাগুলোতে মলম দিয়ে দেয়,,
শরীরের আ*ঘাত তো ওষুধ দিলে সেরে যায় কিন্তু কথাট আ*ঘাত কোন কিছু দিয়ে সাড়ে না। কিছুই বুঝতে পারছিলাম না নিলা কেন আমার নামে মি*থ্যা কথা বললো।
খুব কষ্ট হচ্ছে মনে মনে আল্লাহ কে বলছে আল্লাহ তুমি আমাকে এত কষ্ট কেন দিচ্ছ সবকিছুর অন্যায় কেন আমার মাথার উপরে দিচ্ছ আর সহ্য করতে পারছি না। মিথ্যা অপবাদ আর সহয় করতে পারছি না
সকাল হতেই শাশুড়ী ডাক পড়লো কইগো নবাবজাদি সকাল হলো তোর এতো সময় ধরে ডাকছি শুনতে পাস না।
মেঘা আস্তে আস্তে নিচে নামলো নুসরাত কে দেখে বলতে শুরু করলো...
বড়লোকের ছেলে দেখে লো*ভ সামলাতে পারিস নি তাই না এজন্য নিজের বোনটাকে সরিয়ে নিজের বোনের জায়গায় চলে এসেছিস. তুই হয়তো ভুলে গেছি জুতা পায়ে মানায় সো*না গলায়,,
জাত পাত নাই জ*ন্মে ঠিক নাই অনাথ আশ্রম থেকে নিয়ে এসে লালন করছে আমি কোনদিন আমার ছেলের বউ হিসেবে মানবো না তুইও আমার ছেলের আশেপাশে ঘি*সবি না এই বাড়িতে একটা কাজের লোকের মেয়ের মত থাকবি আমি উকিল ডেকে তোদের ডিভোর্সের ব্যবস্থা করছি ডি*ভোর্স দিয়ে জ*ন্মের মত এখান থেকে চলে যাবি।
চলবে...

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন