‘স্বামীর সামনে প্রাক্তনের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক চাই!’— স্ত্রীর আবদারে স্তম্ভিত পরিবার


একটা সম্পর্ক শুধুমাত্র দাম্পত্যের শংসাপত্র নয়, বরং দুই হৃদয়ের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর আত্মিক বন্ধনের মেলবন্ধন। জীবনের পথে চলতে গিয়ে অনেক দম্পতিই নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন—অর্থনৈতিক সংকট, স্বাস্থ্য সমস্যা কিংবা সম্পর্কের টানাপোড়েন। কিন্তু কখনও কখনও এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যেখানে যুক্তি আর আবেগের দ্বন্দ্বে পড়ে যায় একটা গোটা সংসার। ঠিক তেমনই এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন এক স্বামী, যাঁর জীবনের ঘটনা নেটমাধ্যমে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।


বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া মানুষের মনের কথাগুলিকে প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। রেডিট (Reddit)-এর মতো প্ল্যাটফর্মে আত্মপরিচয় গোপন রেখে নিজের জীবনের গভীর অনুভূতির কথাও ভাগ করে নিতে পারেন ব্যবহারকারীরা। সম্প্রতি সেখানে একজন ব্যবহারকারী তাঁর এমন একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন, যা পড়ে চোখে জল এসেছে বহু নেটিজেনের। সেই ঘটনা একদিকে যেমন হৃদয়বিদারক, তেমনি প্রশ্ন তোলে—ভালোবাসার প্রকৃত মানে কী?


অভিযোগকারীর কথায়, তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে বৈবাহিক সম্পর্কে রয়েছেন। সব মিলিয়ে জীবনটা খারাপ কাটছিল না। কিন্তু হঠাৎ একদিন জানা যায়, তাঁর স্ত্রী মারণরোগে আক্রান্ত। চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, সময় খুবই কম। সেই মুহূর্তে স্ত্রীর শারীরিক যন্ত্রণা ছাড়াও মানসিক দিক সামলানো ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তবে স্বামী হিসেবে তিনি স্ত্রীর পাশে ছিলেন প্রতিটি পদক্ষেপে।


স্ত্রীর শারীরিক অবস্থা ক্রমশ অবনতি হতে থাকলে, একদিন তিনি স্বামীর কাছে নিজের অন্তিম ইচ্ছার কথা জানান। স্বামী ভাবেন, হয়তো কোনও বিশেষ জায়গায় যেতে চান বা কোনও পুরনো স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে চান। কিন্তু যা শুনলেন, তাতে স্তব্ধ হয়ে যান তিনি। স্ত্রী বলেন, মৃত্যুর আগে তিনি প্রাক্তন প্রেমিকের সঙ্গে একবার সঙ্গম করতে চান। আর এই ইচ্ছাপূরণে স্বামীর অনুমতি প্রার্থনা করেন।


স্ত্রীর এমন অনুরোধে ভিতর থেকে ভেঙে পড়েন স্বামী। একদিকে স্ত্রীকে খুশি করে তাঁর শেষ ইচ্ছা পূরণ করার মানসিক দ্বায়িত্ব, অন্যদিকে বিবাহবদ্ধ সম্পর্কের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার মতো অনুভূতি। এই দ্বন্দ্বে জর্জরিত হয়ে তিনি রেডিট-এ নিজের কাহিনি পোস্ট করেন। নেটিজেনদের একাংশ তাঁর যন্ত্রণায় সহানুভূতি জানালেও, অনেকেই স্ত্রীর ইচ্ছাকে ‘স্বার্থপরতা’র নিদর্শন বলে কটাক্ষ করেছেন। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—মানুষ কি মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নিজের পুরনো ভালোবাসার কাছে একটু আশ্রয় খুঁজে নিতে পারে না? আর স্বামী হিসেবে সেই চাওয়াকে কি সম্মান জানানো উচিত? এই নিয়েই আজ সরগরম গোটা নেটদুনিয়া।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন