Operation Sindoor-অনেক ভেবে প্ল্যান করেই করা হয়েছিল৷ সরকারি সূত্র বলছে, ভারতের অপারেশন সিদুঁর কেবল একটি হামলার জবাবি স্ট্রাইক ছিল না - এটি ছিল পাকিস্তানের মাটি থেকে কয়েক দশক ধরে পরিচালিত একের পর এক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এক বজ্র কঠিন জবাব। সূত্র বলেছে , এটি এক সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপে, ভারত তার আধুনিক ইতিহাসের কিছু অন্ধকার অধ্যায়ের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছে, ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতিশোধ নিয়েছে এবং পাকিস্তানি রাষ্ট্র কর্তৃক দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত জঙ্গি পরিকাঠামোকে সমূলে উপড়ে ফেলেছে৷
জম্মু ও কাশ্মীরে হামলার সঙ্গে জড়িত বেশ কিছু লস্কর ও জইশ সক্রিয় সদস্যকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এরা ছিল অসংখ্য ভারতীয় মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তি, যাদের সন্ত্রাসের রাজত্ব পূর্বে পাকিস্তানে দায়মুক্ত ছিল। সন্ত্রাসবাদীরা যেমন: লস্কর-ই-তৈয়বার মুদাসসার খাদিয়ান খাস (মুদাসসার এবং আবু জান্দাল নামেও পরিচিত)। সে মুরিদকেতে মারকাজ তাইবাতে কার্যক্রম পরিচালনা করত৷
জৈশ-ই-মহম্মদের হাফিজ মুহাম্মদ জামিল। তিনি মাওলানা মাসুদ আজহারের (বড় শ্যালক) আত্মীয় ছিল। সে বাহাওয়ালপুরের মারকাজ সুবহানআল্লাহ-র কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করত। তিনি যুব মৌলবাদ এবং জৈশ-ই-মহম্মদের আর্থিক কার্যক্রমের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
জৈশ-ই-মহম্মদের মহম্মদ ইউসুফ আজহার (উপাধি: ওস্তাদ জি, মহম্মদ সেলিম, ঘোসি সাহাব)। সে মাসুদ আজহারের শ্যালক ছিলেন এবং জৈশ-ই-মহম্মদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ কর্মসূচির জন্য দায়ী ছিল। জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী ঘটনার সঙ্গে তার যোগসূত্র ছিল এবং IC-814 কান্দাহার বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনায় তার নাম সন্দেহভাজন হিসেবে ছিল।
লস্কর-ই-তৈয়বার খালিদ (ওরফে আবু আকাশা)। সে জম্মু ও কাশ্মীরে একাধিক জঙ্গি অভিযান পরিচালনা করেছিল এবং আফগান অস্ত্র পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল। জৈশ-ই-মহম্মদের মহম্মদ হাসান খান। সে জৈশ-ই-মহম্মদের পাক অধিকৃত কাশ্মীরি কমান্ডার মুফতি আসগর খান কাশ্মীরির ছেলে। জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনায় সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
পাঠানকোট ও সংসদ হামলা: ভারত জৈশ-ই-মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারের ভাই এবং মূল ষড়যন্ত্রকারী আব্দুল রউফ আসগরকে হত্যা করেছে। পাঠানকোট সন্ত্রাসবাদী হামলা এবং ভারতীয় সংসদ সন্ত্রাসবাদী হামলার সঙ্গে তার যোগসূত্র ছিল।
২৬/১১ মুম্বই হামলা (২০০৮): সিঁদুর আজমল কাসভ, ডেভিড হেডলি এবং এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্যদের প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত সন্ত্রাসী শিবিরগুলিকে ধ্বংস করে দেয়। যে স্থানগুলি একসময় গণহত্যাকারীদের তৈরি করত, সেই একই স্থানগুলিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয়, যাতে পাকিস্তানের মাটি থেকে আর কাসাবদের উত্থান না হয়।
IC-814 হাইজ্যাকিং (১৯৯৯): কান্দাহারগামী ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমান হাইজ্যাকিংয়ের মূল ভূমিকা পালন করেছিলেন আব্দুল রউফ আসগর, যা জাতির বিবেককে নাড়া দিয়েছিল।
ড্যানিয়েল পার্লের হত্যা (২০০২): জৈশ-ই-মহম্মদ এবং আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত পাকিস্তান-ভিত্তিক সন্ত্রাসবাদীরা আমেরিকান সাংবাদিক ড্যানিয়েল পার্লকে অপহরণ করে শিরশ্ছেদ করে। সিন্দুরের লক্ষ্যবস্তু অভিযানে এই জঘন্য কাজটি ঘটাতে সক্ষম সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কগুলি ধ্বংস করেছে৷
