জঙ্গি হামলায় ফের রক্তাক্ত ভূস্বর্গ। মৃত্যুমিছিল। এ বার সন্ত্রাসের নিশানায় সেনা-পুলিশ নয়। এলোপাথাড়ি বুলেটের নিশানায় এ বার পর্যটকরা। রাতারাতি শিরোনামে পহেলগাঁও। কেন? জঙ্গিরা আচমকা কেন পহেলগাঁওয়ের ট্যুরিস্ট রিসর্টকে টার্গেট করল? এর পিছনে একাধিক কারণ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামনেই অমরনাথ যাত্রা। এই জঙ্গি হামলার ফলে অমরনাথ যাত্রার পথে কাঁটা বিছিয়ে দেওয়া গেল কিছুটা। কিন্তু সবচেয়ে বড় যে কারণটি চিন্তার, তা হল পর্যটকদের টার্গেট করে শুধু পর্যটন ব্যবসা ধাক্কা দেওয়া। ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পরে সবে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করা কাশ্মীরকে অশান্ত করে তোলাই ছিল জঙ্গিদের মূল টার্গেট।
আর সেই টার্গেটে পৌঁছতেই বেছে নেওয়া হল কাশ্মীরে অন্যতম পছন্দের জায়গা পহেলগাঁও। বৈসরন ভ্যালি তথা গোটা পহেলগাঁওকেই বলা হয় মিনি সুইৎজারল্য়ান্ড। এমনই নয়নভুলানো প্রকৃতির রূপ। তুলিয়ান লেক থেকে বেতাব ভ্যালি, বৈসরন ভ্যালি থেকে Vale of kashmir, কী নেই পহেলগাঁওতে!
প্রত্যেক বছরের মতো এবারও পহেলগাঁওতে ছিল পর্যটকদের ভিড়। আর সেই তাঁরাই কিনা জঙ্গিদের ভয়ঙ্কর হামলার মুখে পড়লেন! গত কয়েক বছরের কাশ্মীর ভ্রমণের হিড়িক বেড়েছে। প্রতি বছরই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে পর্যটকদের সংখ্যা। এখন কাশ্মীরে চলছে টিউলিপের মরসুম। ফলে পর্যটকরা ছিলেন ছড়িয়ে ছিটিয়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈসরন জায়গাটি যেতে হয় হেঁটে বা ঘোড়ায় চড়ে। আর সেই কারণেই এই জায়গাটি বেছে নেয় জঙ্গিরা। যাতে হামলার সময় তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছতে না পারে সেনা বা পুলিশ।
সেই সুযোগেই হামলা চালিয়ে পালিয়ে যেতে পেরেছিল জঙ্গিরা। বৈসরন যাওয়ার পথটি পাহাড়ের ঢাল বেয়ে গভীর জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে। সেখানে অস্ত্র ফেলে পালানো সহজ। এছাড়া এই জায়গা থেকে অন্য জেলায় ঢুকে যাওয়ার রাস্তাও সোজা।
হামলার দায় নিয়েছে লস্কর-ঘনিষ্ঠ 'দ্য রেজ়িস্ট্যান্স ফ্রন্ট'। তবে পাক সেনাপ্রধান আসিফ মুনিরকেই এর 'মাস্টারমাইন্ড' বলছেন অনেকে। তাঁরাই মনে করিয়ে দিচ্ছেন মুনিরের সাম্প্রতিক যুদ্ধজিগির! তাঁদের দাবি, জম্মু-কাশ্মীর ইস্যু তুলে ধরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতকে খাটো করাটাই উদ্দেশ্য পাকিস্তানের।

