পাকিস্তানি প্লেব্যাক গায়িকা, আজ তিনি আর নেই, কিন্তু মানুষ এখনও তার গাওয়া গানগুলো মনে রাখে। সেই যুগে গানের জগতে তার তুলনা ছিল না। গায়িকা হওয়া ছাড়াও, সেই সময়ে তাঁর সৌন্দর্যের প্রতি আগ্রহ ছিল বহু মানুষের। তাঁর সঙ্গে প্রেমের কারণে এক ক্রিকেটারের জীবন শেষ হয়েছিল!
নূর জাহান৷ শুধু পাকিস্তানের নয়, ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের এক উজ্জ্বল তারকা! বহু গান গেয়েছিলেন তিনি। নূর জাহান পঞ্জাবি, সিন্ধি, বাংলা, পশতু, হিন্দি এবং আরবি ভাষায় ১০ হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন। তাঁর কণ্ঠের জাদু এমন ছিল যে, প্রয়াত লতা মঙ্গেশকরও তাঁর ভক্ত হয়ে উঠেছিলেন।
নূর জাহানের আসল নাম আল্লাহ রাখি ভাসাই। তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে সঙ্গীত পেয়েছিলেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি অভিনয় এবং গান গাওয়ার প্রতি অনুরাগী ছিলেন। ১৯৩০ সালে তিনি 'হিন্দ কে তারে' ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করেন। নূরজাহান ছিলেন সেই যুগের সেইসব ব্যক্তিত্বদের মধ্যে একজন যাঁরা নিজের শর্তে কাজ করতেন।
নুর জাহানের দুটি বিয়ে হয়েছিল। ১৯৪২ সালে তিনি শওকত রিজভির সঙ্গে প্রথম বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ১৯৫৩ সালে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে। নূর জাহানের দ্বিতীয় বিবাহ হয় ১৯৫৯ সালে এজাজ দুররানির সঙ্গে, যা ১৯৭১ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল। এজাজ ছিলেন নূরের থেকে ৯ বছরের ছোট৷ এছাড়াও, নূর জাহান ও পাকিস্তানি খেলোয়াড় নজর মোহাম্মদের প্রেমও ছিল খবরের শিরোনামে!
দ্বিতীয় বিয়ের পর, পাকিস্তানি ক্রিকেটার নজর মোহাম্মদের সঙ্গে সক্ষ্যতা বাড়ে। তাদের প্রেমের গল্পের গল্পগুলো এখনও মানুষকে অবাক করে। বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও নূরজাহান এই সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। দুজনেই একে অপরের আরও কাছাকাছি আসেন।
একবার, ক্রিকেটার প্রেমে এতটাই অসহায় হয়ে পড়েন যে তিনি গায়কের বাড়িতে পৌঁছে যান। তাঁরা ঘরে বসেছিলেন, হঠাৎ নূর জাহানের স্বামী দরজায় কড়া নাড়েন।
স্বামীর আসার খবর জানতে পেরেই তাঁদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে৷ কোনও কিছু বুঝে ওঠার আগেই দ্বিতীয় তলা থেকে লাফ দেন। পড়ে গিয়ে তাঁর হাতে গভীর আঘাত লাগে। এরপর, তিনি গোপনে একজন পেশাদার ব্যক্তির থেকে তাঁর হাতের চিকিৎসা করান, কিন্তু ধীরে ধীরে তাঁর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়।
যার ফলে তিনি আর ক্রিকেটও খেলতে পারেননি এবং এভাবে তাঁর কেরিয়ার নষ্ট হয়ে যায়।
