জম্মু কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত সন্দেহভাজন চার হামলাকারীর ছবি প্রকাশ করেছে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা।
বুধবার (২৩ এপ্রিল) দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি’র এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চারজন হামলাকারীর মধ্যে এখনো পর্যন্ত তিনজনের নাম জানা গেছে। এরা হলেন, আসিফ ফৌজি, সুলেমান শাহ ও আবু তালহা। এরা সবাই পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠন লস্কর ই তৈয়বার সঙ্গে জড়িত।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকেলে মিনি সুইজারল্যান্ড খ্যাত ভারতের জম্মু কাশ্মীরের পেহেল গামে ন্যাক্কারজনক হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এতে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ২৬ জন মানুষ। হামলার আগে এসব নিহতদের কাছে ধর্ম পরিচয় জানতে চায় হামলাকারীরা।
জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁয়ের বৈসারনে জঙ্গি হামলায় নিহত হয়েছেন ২৬ পর্যটক। আরও ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্য়ে রয়েছেন ৩ #বাঙালি পর্যটক। হামলার পরপরই কাশ্মীরে হামলাকারীদের ধরতে কাজে নেমে পড়েছে একাধিক সংস্থা। জানা যাচ্ছে হামলার পেছনে রয়েছে সন্ত্রাসবাদী সইফুল্লা কাসুরি ওরফে খালিদ। AK-47 রাইফেল হাতে যার ফটো #বড় করে দেখানো হয়েছে সে বিশেষ করে পর্যটকদের একের পর এক খুন করেছে এবং পহেলগাম হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হলেন 'লস্কর-ই-তৈয়বার' শীর্ষ কমান্ডার সাইফুল্লাহ সাজিদ জুট। জুট ইসলামাবাদ থেকে কাজ করে বলে মনে করা হচ্ছে এবং সে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের বাসিন্দা।
যে চার জন জঙ্গির ছবি প্রকাশ করা হয়েছে তাদের মধ্যে ৩ জনের নাম হল আসিফ ফুজি, সুলেমান শাহ ও আবু তালহা। এরা সবাই জঙ্গি সংগঠন 'দ্যা রেজিস্টান্ট ফ্রন্টের' সদস্য। এরা হল লস্কর ই তৈবার শাখা সংগঠন। এরাই বৈসারনের রিসর্টে হামলা চালিয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। শুখু তাই নয় #ধর্মীয় পরিচয় দেখে দেখে গুলি করে মারা হয়। যে জায়গায় হামলা হয় তার পাশেই রয়েছে পাইনের ঘন জঙ্গল। সেখান থেকেই বেরিয়ে আসে ৫-৭ জন জঙ্গি।
ঘটনার থেকেই আসপাশের এলাকায় চিরুনী তল্লাশী শুরু করেছে সেনাবাহিনী। কাজে লাগানো হয়েছে হেলিকপ্টারও। প্রত্যক্ষর্শীদের দাবি হামলাকারীদের হাতে উন্নত অস্ত্র ছিল। তাদের পিঠে ব্যাগ ছিল। তদন্তকারীদের ধারনা সেই ব্যাগে খাবার ও ওষুধ থাকতে পারে। প্রত্য়দর্শীরা জানিয়েছেন ২ জঙ্গি নিজেদের মধ্যে আফগানিস্তানের পুস্তো ভাষায় কথা বলছিল। বাকী ২ জন ছিল এলাকার বাসিন্দা। তারা কথা বলছিল কাশ্মীরিতে। এদের সঙ্গে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মুজাফফরাবাদ ও করাচির যোগ পাওয়া গিয়েছে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, জঙ্গিরা নির্বিচার গুলি চালাচ্ছিল। কোথাও লুকোনের জায়গা ছিল না। একজন ধুসর কুর্তা পাজামা পরে একে ৪৭ রাইফেল থেকে গুলি চালাচ্ছিল। এদিকে, জম্মু ও কাশ্মীর সরকার মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লাখ টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। আহতদের দেওয়া হবে ২ লাখ টাকা।

